আরিফ হাসান, তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
ধরেন, ১৯৩০ থেকে ৪০ এর দশক! কবি আল্লামা ইকবাল, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, এ কে ফজলুল হকরা সকলে মিলে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরির জন্য তোড়জোড় শুরু করলো। এটা দেখে বাঙ্গুর সমাজের পোলাপান যারা সদ্য নেটিজেন হয়ে উঠেছে তারা তাদের অপরিস্কৃত দাঁত বের করে হাসতে শুরু করলো! তাদের হাসার কারণ হলো – আলী জিন্নাহ ফজলুল হকরা ছাপরি, তারা পাগল হয়ে গেছে ! একটা ভূখণ্ডকে কেউ দু’ভাগ করতে চায়? কত বড় সাহস আলাদা পতাকাও উড়ায়! সেই সাথে কেউ কেউ বলতে শুরু করল এদের ভারত মহাসাগরের তলদেশে ছেড়ে দিয়ে আসা হোক।
ধরেন, ১৯৪৩ সাল ! সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে হুকুমত-এ-আজাদ হিন্দ (স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার) পুনর্গঠিত হলো। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বাঙ্গুর সমাজের পোলাপান যারা সদ্য নেটিজেন হয়ে উঠেছে তারা তাদের অপরিস্কৃত দাঁত বের করে হাসতে শুরু করলো! তাদের হাসার কারণ হলো- দেশে এখনো ব্রিটিশ শাসন চলমান, কেন সুভাষ বসু স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার গঠন করবে! সুভাষ বসু একজন টোকাই।
ধরেন, ২ মার্চ ১৯৭১ সাল! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের পতাকা উড়াইলো! দেশটা তখনও পাকিস্তান!
ধরেন, ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল! মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। ফেসবুকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে বাঙ্গু সমাজের পোলাপান যারা সদ্য নেটিজন হয়ে উঠেছে তাদের মধ্যে হাসাহাসির একটা রোল পড়ে গেল। কারণ দেশটাতো পাকিস্তান।
এভাবেই বঙ্গ সমাজের পোলাপানের হাসাহাসি চলতে থাকলো। এবং তা এখনো চলছে, যখন তারা দেখেছে ঢাবির আগ্রাসন থেকে মুক্ত হয়ে, ৭ কলেজের সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত হয়ে, শিক্ষা নামক বাণিজ্য থেকে মুক্ত হয়ে তিতুমীর কলেজ আলাদা সতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করার লক্ষ্যে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাদের নেইমপ্লেট পরিবর্তন করেছে। হাসাহাসি চলুক। বাঙ্গু সমাজের হাসাহাসি চলবে। তবে সকলের দাঁত পরিষ্কার করা জরুরী।