নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড যাদবপুর গ্রামের সরকারি হালট দখল মুক্ত করার জন্য আবেদন করে এলাকাবাসী। কিন্তু এই ছয় মাসে কোন পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা ।
গত ২ এপ্রিল গণস্বাক্ষরে আটপাড়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের এলাকাবাসীর পক্ষে রফিকুল ইসলাম ও আবুল হোসেন। আবেদন করার পর ৬ মে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সহকারি কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা। এরপর যারা দখলে ছিল তাদেরকে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে যান এবং আবেদনকারীদের বলেন হালট দখল মুক্তকরণের জন্য পুনরায় আবেদন করার জন্য সেটিও করা হয়, তারপরেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযোগে জানা যায় ,উপজেলা স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামটি নেত্রকোণা ও আটপাড়া উপজেলা রোডের পাশে উপস্থিত, এখানে তিনটি মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রধান সড়ক হতে যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ শতাধিক মানুষের আনাগোনা হয় এবং সময় কম লাগে, প্রধান রাস্তা হতে যে সরকারি হালট রয়েছে সেখানে দখলমুক্ত করে নতুন রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী।
কিন্তু এদিকে দীর্ঘ ৭ মাস উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বরাবর নতুন রাস্তা নির্মাণের আবেদন করে পরবর্তীতে আবার যখন দখলমুক্ত করণের আবেদন করার কথা বললে সেটাও করা হয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সুফল পাইনি ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে । কি অদৃশ্য কারণে কর্মকর্তাকে বারবার বলার পরেও কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন তা এলাকাবাসীর অজানা। আরো বলেন এই রাস্তাটি হলে প্রায় কয়েকশো মানুষের চলাচলের একটা সুন্দর রাস্তা হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি জানিয়ে বলেন, এ রাস্তাটি গত পাঁচ -ছয় বছর যাবৎ দখল করে বন্ধ রয়েছে। পূর্বে এদিকে চলাচল করা যেত এ রাস্তায়। ঠিক কয়েকটি পরিবারের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ কেননা তাদের অন্য কোন চলাচলের রাস্তা নেই, ব্যক্তিগত রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া নেত্রকোণা হতে সকল শিক্ষক আসেন তাই ওনাদের এদিকে সহজ হয় এবং বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের খুব অল্প সময়ের এই রাস্তা এটি। উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন এটি দ্রুত দখলমুক্ত করে এলাকাবাসীর চলাচল করার উপযোগী করেন।
আবেদনকারী রফিকুল ইসলাম এর বড় ভাই পলাশ জানান, ৬-৭ মাস আগে সরকারি হালট দখলমুক্ত করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল আটপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি )কর্মকর্তা বরাবর। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কর্মকর্তাকে ফোন দিলে বলে যে দখল মুক্ত করে দিবে কিন্তু পরে আর এর কোন কার্যক্রম চলমান থাকে না । কর্মকর্তা শুধু বলে মামলা আছে কিন্তু আমরা কেউই জানিনা মামলার বাদিকে - বিবাদীকে বা আদৌ মামলা আছে কিনা। একটা অজুহাত দেখে তারা এ পর্যন্ত নিয়েছে যা তাদের কাছ থেকে আশা করি না । উনাদের কোথায় এত বাঁধা বা কোন মামলা যদি থেকে থাকে তাহলে যে বলেছে তার কাছে মামলার কাগজ চান।
এদিকে জেলা প্রশাসককে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে যোগাযোগ করা যায়নি ।সহকারী কমিশনার (ভূমি )কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি , বর্তমানে কোন সার্ভেয়ার নেই একজন আছে অতিরিক্ত দায়িত্বে সপ্তাহে দুদিন আসে ।অফিসে সার্ভেয়ার না থাকায় কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না যখন আসবে তখন এটা মেপে ব্যবস্থা নিবে বলে জানান। মামলার আছে বিষয়টি কিভাবে জানলেন সে বিষয়ে তিনি বলেন, সরেজমিনে মাপার সময় কেউ একজন বলেছে তবে কে বলেছে সেটা মনে রাখেননি।
(পর্ব-১)