গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে মৌমিতা আক্তার লতা (২৩) নামের গৃহবধূ হত্যা করা হয়েছে। এ মামলার রায়ে ঘাতক স্বামী নুর মো. ওরফে নয়নকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করেন বিচারক। বিয়ের ৮ মাসের মাথায় গৃহবধু মৌমিতাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী নয়ন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ এসএম নাসিম রেজা এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আদালতে আসামি উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নুর মো. ওরফে নয়ন (২৯) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পুর্ব সোনারায় গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে। নিহত মৌমিতা আক্তার লতার (২৩) বাড়ি পার্শ্ববর্তী চাচীয়া মীরগঞ্জ গ্রামে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মাসুদার রহমান মাসুদ জানান, গৃহবধু মৌমিতা হত্যা মামলায় আদালতে দীর্ঘ স্বাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারকার্য শেষে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার বরাত দিয়ে জেলা জজ আদালতের (জিআর) শাখা উপ-পরির্দশক (এসআই) শুভ্র জানান, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে নয়নের সঙ্গে বিয়ে হয় মৌমিতা আক্তার লতার। এরই মাঝে তাদের পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। যৌতুকের জন্য মৌমিতা আক্তারকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন স্বামী নয়ন। এক পর্যায়ে যৌতুকের টাকা না পেয়ে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মৌমিতা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী নয়ন। পরে খবর পেয়ে মৌমিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী নয়নের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে পিটিশন মামলা করেন নিহতের মা গোলেনুর বেগম।