কলমে:- আমিরুল ইসলাম জীবন
হালিমা ছিল সেন্টার পিস গল্পের বই পড়ায় তার ভীষণ আগ্রহ। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে একেকটা সায়েন্স ফিকশন বই পড়ে নিজের কল্পনার জগৎকে আরও রঙিন করে তুলত।
একদিন তার স্কুলে ঘোষণা দেওয়া হলো, "আগামী মাসে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী প্রতিযোগিতা হবে। বিজয়ী পুরস্কার হিসেবে পাবে একটি টেলিস্কোপ!" এই খবর শুনে হালিমা তো মহাখুশি। সে মনস্থির করল, এমন একটি গল্প লিখবে যা কেউ আগে ভাবেনি।
কাহিনির শুরুতেই হালিমা একটি অনন্য গ্রহের নাম দিল – তারালতা। এটি এমন একটি গ্রহ, যেখানে সব কিছু প্রাণবন্ত। পাহাড় গুলো গান গায়, নদীগুলো কথা বলে, এবং বাতাসও মানুষের মতো পরামর্শ দেয়।
একদিন, পৃথিবীর একটি গবেষণা কেন্দ্রে একটি রহস্যময় সংকেত ধরা পড়ে। সংকেতটি তারালতা গ্রহ থেকে এসেছে। সংকেতটি বারবার বলছিল, “আমাদের সাহায্য করুন! আমাদের গ্রহ ধ্বংসের মুখে। আমাদের বাঁচান।”
হালিমার গল্পের নায়ক, "অ্যাস্ট্রো-ইঞ্জিনিয়ার কায়াল," একটি সুপারসনিক রকেটে চড়ে তারালতা গ্রহে যায়। সেখানে গিয়ে সে দেখে, গ্রহটি একটি বিশাল কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে চলছে। কিন্তু সেই কম্পিউটারটি এখন বিকল হয়ে পড়েছে, যার ফলে গ্রহের বাসিন্দারা ঝুঁকির মুখে।
কায়াল বুঝতে পারে, এই গ্রহের মাটির নিচে এমন এক ধরনের শক্তি আছে যা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। এটি "কিউ-এনার্জি" নামে পরিচিত। এই শক্তি গ্রহের সব কিছুকে জীবন্ত এবং গতিশীল করে রেখেছে। কিন্তু কিউ-এনার্জি সরবরাহকারী প্রধান যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্রহটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে।
কায়াল বুঝতে পারে, তারালতা গ্রহকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো একটি বিশেষ ধাতু দিয়ে প্রধান যন্ত্রটি মেরামত করা। এই ধাতুর নাম "জিরানিয়াম," যা কেবলমাত্র পৃথিবীতেই পাওয়া যায়।
তৎক্ষণাৎ কায়াল পৃথিবীতে বার্তা পাঠায় এবং বিজ্ঞানীরা পৃথিবী থেকে জিরানিয়াম সংগ্রহ করে তারালতা গ্রহে পাঠিয়ে দেয়। প্রধান যন্ত্রটি মেরামত করার পর গ্রহটি আবার প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তারালতার রাজা কায়ালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "তুমি শুধু আমাদের গ্রহকেই বাঁচাওনি, বরং দুটি ভিন্ন জগতের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতুও তৈরি করেছ।"হালিমা তারালতা গ্রহের গল্পটি প্রতিযোগিতায় জমা দেয়। বিচারকদের কাছে গল্পটি ছিল অন্য সব গল্পের চেয়ে একেবারে আলাদা। তার গল্পে ছিল কল্পনা, বিজ্ঞানের যৌক্তিকতা, এবং মানবতার বার্তা।
হালিমা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে এবং পুরস্কার হিসেবে একটি উজ্জ্বল টেলিস্কোপ পায়। সেই রাতেই সে টেলিস্কোপ দিয়ে আকাশে তারালতা গ্রহ খুঁজে দেখে।সেই দিন থেকে হালিমা কল্পনার গল্পের সঙ্গে সত্যিকারের বিজ্ঞানচর্চা শুরু করে দেয়।শেষ।