নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত হয়ে ঝুলে আছেন বছরের পর বছর। না তারা চাকরি ফিরে পাচ্ছেন, না পাচ্ছেন প্রাপ্য অর্থ। এমনি আরেকটি চিত্র হতে যাচ্ছে,
নেত্রকোনা আটপাড়া উপজেলায় অবস্থিত, বিহুসবান জামিয়া আরাবিয়া (বালিকা) মাদ্রাসার দায়িত্বরত শিক্ষক মাওলানা মো: ইসরাফিল হোসেন নামের শিক্ষককে বিনা কারণ ও বিনা নোটিশে বরখাস্ত করেছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক,
মাদ্রাসাটি ২০০২ সালে ইউনিয়নের গৃদান টেংগা গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ মাওলানা মোঃ গোলাম রব্বানী।
এদিকে গত ১০ই ফেব্রুয়ারি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ৯ই ফেব্রুয়ারি থেকে মাদ্রাসার প্রায় সকল ছাত্রী বরখাস্ত হওয়া প্রিয় শিক্ষককে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন ও আন্দোলন করেছেন। মাদ্রাসার ছাত্রীবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মাদ্রাসায় প্রায়ই এরকম ঘটনা ঘটেই থাকে। গত সাত বছর যাবত সুনামের সহিত নির্দিষ্ট ক্লাসের ছাত্রীদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে ইসরাফিল হুজুর , কোনদিন কারো সাথে কোন খারাপ আচরণ করেন নাই, আমাদের জানামতে কোনরকম সমাজবিরোধী কাজের সাথে জড়িত নয়, অত্র মাদ্রাসার কোন নিয়মাবলী কোন সময় ভঙ্গ করেন নাই, ইত্যাদি। যখন এই প্রিয় শিক্ষকের শিক্ষায় ভবিষ্যতে ভালো কিছু করব বলে আশা করছি, ঠিক তখনই আমাদের সবার প্রিয় শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যেতে হল, কেন কি কারণে চলে যেতে হল তা আমরা অনেকবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে জানার চেষ্টা করেই পাইনি। এখন আমাদের সবার দাবি আমাদের এই প্রিয় শিক্ষককে আমাদের মাঝে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য।
এ বিষয়ে বরখাস্ত হওয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ ইসরাফিল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমি দীর্ঘ ৭ বছর যাবত সুনামের সহিত মাদ্রাসার ছাত্রীদেরকে শিক্ষা দিয়ে আসছি, কোনরকম অসাধ আচরণ, অশ্লীলতা, হয়রানি, ইত্যাদি করি নাই। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গত ১০ ফেব্রুয়ারি আমাকে ফোন বলেন দুপুর ১২ টার ভিতরে বেরিয়ে যেতে বলেন। আমাকে বের করে দেওয়ার কথা কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ক্লাসের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ার ভাষা ভালো না, এজন্য আমাকে আমার এ প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে হবে । কিন্তু আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া মৌখিক ভাবে বের করে দেওয়া হয়েছে এটা নিয়ম বহির্ভূত।
এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মোঃ গোলাম রব্বানী সাহেবের ইমুতে অনেকবার ফোন দেওয়ার পরও ফোন না ধরায়, এবং দেশের বাহিরে থাকায় উনার কোনরকম বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।