একসময় পরিশ্রমী কৃষকদের গ্রাম হিসেবে পরিচিত জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার আড়ইমারী এখন মাদক ব্যবসার প্রধান কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। ১০নং গাইবান্ধা ও ১১নংচরপুটিমারী ইউনিয়নের মাঝখানে অবস্থিত এই গ্রামে দিন দিন মাদকের ভয়াবহতা বাড়ছে। একসময়ের শান্তিপূর্ণ কৃষিপ্রধান এই জনপদে এখন ভয় ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীরা অদৃশ্য শক্তির ইশারায় দ্রুত জামিনে মুক্তি পায় এবং আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়ে। ফলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
গ্রামের একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমরা মুখ খুলতে পারি না। যদি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কিছু বলি, তাহলে রাতে আমাদের বাড়িতে মাদক রেখে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।”
এই ভয়ংকর চক্রের কবলে পড়ে শুধু তরুণরাই নয়, অনেক নারী ও শিশুও মাদক বিক্রি ও ব্যবহারে জড়িয়ে পড়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসে। যে দল ক্ষমতায় আসে, মাদক কারবারিরা সেই দলের নেতাদের ছায়ায় আশ্রয় নেয় এবং নিজেদের রক্ষা করে। একসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অভিযান থাকলেও, সরকারের পরিবর্তনের পর এখন তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মাদক ব্যবসা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
গ্রামের সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অভিযানের মাধ্যমে আড়ইমারীকে আবারও মাদকমুক্ত করা হোক। তারা চান, এই গ্রাম তার পুরনো পরিচয়ে ফিরে যাক—একটি শান্তিপূর্ণ, কৃষিপ্রধান জনপদ হিসেবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের যথাযথ পদক্ষেপই পারে আড়ইমারীকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে এলাকার যুবসমাজকে রক্ষা করতে।