লেখক আমিরুল ইসলাম জীবন
আমার পকেট শুন্য এখন, তবু স্বপ্ন দেখি,
ছেলের মুখে হাসি ফোটে, সেই আশাতেই থাকি।
শার্ট, প্যান্ট, একজোড়া জুতা, চশমা, নতুন রঙিন গেঞ্জি,
কোথা থেকে পাবো টাকা, মনটা শুধু কাঁদে বেঞ্জি।
তবু বাবা বলে কথা, ভাবতে হয় যে আগে,
নিজের যত কষ্ট থাক, ছেলেকে তো লাগে।
সে হাসলে জগত হাসে, মনটা ভরে যায়,
তার চোখেতে খুশির আলো, বাবার বুকে ঠাঁই।
বউটাও যে চায় যে কিছু, স্বপ্ন তারও আছে,
আমার মতো সেও তো চায়, নতুন শাড়ি কাছে।
তবু বলি, “এইবার থাক, পরে দেবো ঠিক”,
তার চোখেতে স্বপ্ন ভাঙে, চুপটি থাকে নীরব দৃষ্টিক।
আল্লাহ যদি খুলে দিতো, কপাল আমার সুখের,
ছেলের মুখে হাসি ফুটতো, ফুরোত দুঃখের বুকের।
কেউ কি আসবে সাহায্য নিয়ে, জানি না তো কিছু,
তবু লড়বো, ছাড়বো না, করবো শক্ত পিছু।
এই জীবনের টানাপোড়েন, সবার সঙ্গী চির,
কেউ বোঝে, কেউ বোঝে না, কেউ হাসে নির্লজ্জ ভঙ্গি।
তবু বাবার মন তো এক, ছেলের জন্য দায়,
নিজের যতই শূন্যতা থাক, সে তো সব কিছুর মহাশয়।
কি দিয়ে কবনো বলো? মাথায় শুধু চিন্তা,
তবু জানি, জিতবো আমি, পারবো সুখ আনতে।
হয়তো একদিন আসবে সকাল, ছেলের সুখের দিন,
বউয়ের চোখের জল মুছবে, হাসবে খুশির বিন।
বাবা তো হয় না সবাই, বাবা মানেই ত্যাগ,
নিজের কষ্ট গিলে খেয়ে, সন্তানেরে দেয় ভাগ।
এই মন যেন অটুট থাকে, সব দুঃখের রাতেও,
জিতবে বাবা, হাসবে ছেলে, হোক সে শত আঁধারেও!