বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজহার হোসেন।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামস্বর ইউনিয়নের মুখলেজা মৌজায় একাধিক ড্রেজার বসিয়ে ইরি ধানের ভরা মৌসুমে কৃষকদের ইরি ধানের উপর দিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে ফসলি জমি নষ্টের অভিযোগ উঠেছে বক্কার ঠাকুর ও বিএনপি সভাপতি ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলেক মিয়া ও বক্কর ঠাকুরের নেতৃত্বে ধামশ্বর ইউনিয়নের মূখলেজা মৌজা এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে ফসলি জমি নষ্ট করছেন।
আলেক মিয়া ও বক্কর ঠাকুরের দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করায় প্রাণনাশের ভয়ে আছেন ভুক্তোভোগী ও দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শওকত।
শওকত বলেন, ‘আমার ফসলি জমি রক্ষার জন্য আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছি, স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আলেক মিয়া দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুর্বৃত্তদের সাথে নিয়ে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নষ্ট করছে আবাদি ফসলের জমি।’
ভুক্তভোগী শওকত আরও বলেন, ‘আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি, কিন্তু এখন আমি এবং আমার পরিবার হুমকির মধ্যে আছি। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে খুনের হুমকি দিয়েছে।’
ভুক্তভোগী কয়েকজনের অভিযোগ, ধামশ্বর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েব আনছার আলী ড্রেজারে এই অবৈধ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও অভিযুক্তরা তোয়াক্কা না করে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং তারা চরম বিপদে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলেক মিয়া কে ফোন করে পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসানুল নূর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে, এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেননি।
আহসানুল নূর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ওখানে আমাদের তহশিলদারতে পাঠানো হয়েছে, ওদেরকে ড্রেজিং বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ঘটনা হচ্ছে একজন অ্যাডভোকেটের (আলেক মিয়া পেশায় আইনজীবী), আমরা তাকে ফোন দিয়ে বলেছি। আমরা গতকালকেও ওই এলাকায় মোবাইল কোর্ট করেছি। মোবাইল কোর্টে ৪ নং খুলসী ইউনিয়নের এক মেম্বারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে আমরা তাদেরকে ড্রেজিং বন্ধ করতে বলেছি। যদি তারা বন্ধ না করে সেক্ষেত্রে আমরা তাদেরকেও জরিমানা করবো। তারা আমাকে বলেছে তারা বন্ধ করবে। একটু আগে জানিয়েছে তারা বন্ধ করেছে। পরবর্তীতে আমরা আরও খোঁজখবর রাখবো। যদি দেখি উনারা বন্ধ করেনি, তাহলে আমরা আবার মোবাইল কোর্ট করবো।’