প্রদেশ মিস্ত্রী, বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। ঈদের আনন্দ মাতোয়ারা হয় ধনী,গরীব সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। আর এমন দিনের খুশি সবচেয়ে বেশী আনন্দে মাতে শিশুরা। ঈদের দিনে হাতে মেহেদীর রঙ মাখিয়ে রেশমী চুরি দিয়ে আর নতুন বস্ত্র পরিধান করে এবাড়ি থেকে ওবাড়ি ঘুরে বেড়ায় কোমলমতি শিশুরা।
তাই আসন্ন ঈদের খুশি সকলের মাঝে ছরিয়ে দিতে বরগুনার বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের হাত মেহেদীর রঙে রাঙিয়ে আল্পনা আঁকার ব্যাতিক্রমী আয়োজন করে স্থাণীয় কয়েকজন শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে কলাগাছিয়া ও পুরাতন বামনা এলাকার শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে মেহেদি দিয়ে ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও রঙিন করে তোলে ওই শিক্ষার্থীরা।
ব্যতিক্রমী এই মেহেদী উৎসবের আয়োজনে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার বাংলাদেশ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির শিক্ষার্থী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শিশুদের হাতে মেহেদি লাগানোর পাশাপাশি তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ভলান্টিয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. জিহাদ বলেন, “ঈদের আনন্দ সবাইকে একসূত্রে বাঁধে, তাই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”
আয়োজকদের পক্ষে শিক্ষার্থী সৈয়দ এম এম নাহিন আহসান বলেন, “ঈদ আনন্দে হাসুক জীবন, রঙিন রঙে রাঙাও ভুবন—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ প্রথম দিনে শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে মেহেদি দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শিশু অংশগ্রহণ করেছে, যা আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করছে।”
শিশুরা শুধু মেহেদি পরেই নয়, তাদের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিশুদের দেওয়া হয় ঈদ উপহার শেষে তাদের মাঝে মিষ্টান্নও বিতরণ করা হয়।
ব্যতিক্রমী এই মেহেদী উৎসবের আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ও প্রশংসা পেয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন অত্যান্ত প্রশংসনীয়। এই শিশুরা হয়তো এবছরই হাতে মেহেদীর রঙে রাঙিয়েছে। এই মহতী উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মনে ঈদের আনন্দের এক বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করেছে, যা তাদের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে।