মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :
দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম বিশ্বের এই উৎসবের দিনে খুলনা মহানগরীতে ঈদের ছুটিতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি ফাকা থাকলেও প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে ভিড় জমিয়েছে খুলনাবাসী। এ বছর ঈদের ছুটিতে খুলনা মহানগরীর আনন্দ ভ্রমণের জায়গা উল্লাস বিনোদন পার্ক। অপরদিকে পিছিয়ে নেই বনবিলাস চিড়িয়াখানা, হাদিস পার্ক, জাতী সংঘ শিশু পার্ক। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই নগরবাসী ছুটে গেছেন এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। অন্যান্য দিনের মত চালু আছে খুলনা সেনানিবাসের বনবিলাস চিড়িয়াখানা, তবে সাধারনত দিনের তুলনায় দর্শনার্থীদের প্রচুর ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দ্ধিতীয় দিনে খুলনা নগরবাসী সহ আশপাশের অনেক জায়গার মানুষ পরিবার পরিজনকে নিয়ে সময় কাটাতে আসছেন এই পার্কটিতে। নগরীর বিনোদন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উল্লাস পার্ক। পার্কটিতে গিয়ে দেখা যায়, যেন তিল ধরনের ঠাই নেই। সেখানে প্রায় সকল রাইডেই সিরিয়াল দিয়ে উঠতে হয়েছে শিশুদের। লাইনে দাঁড়িয়ে রাইডে চড়তে গিয়ে অনেককেই বিরক্ত হতে দেখা গেছে অনেক দর্শনার্থীকে। তবে বানিজ্যিক পার্ক হওয়াই প্রবেশ মুল্য ও বিভিন্ন রাইডের ফি বেশি বলে মন্তব্য করেছেন দর্শনার্থীরা। এছাড়াও খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর, হাদিস পার্ক, জাতী সংঘ শিশু পার্ক দর্শনার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ঈদের ছুটিতে এসব বিনোদন কেন্দ্র দর্শনার্থীদের৷ আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে। পার্ক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতবারের চেয়ে এবারের দর্শনার্থী সংখ্যা অনেক বেশি। ঈদের দিন ৩১মার্চ সকালে তেমন লোক সমাগম না থাকলেও বিকেলের পর থেকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের চেয়ে সেখানেও দর্শনার্থী বেশি। তবে রাইড গুলো পুরাতন, খুব বেশি সংখ্যক রাইড না থাকা ও দর্শনার্থী আকর্ষনে উদ্যোগ না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন দর্শনার্থীরা। তবে নগরীর অঘোষিত বিনোদন কেন্দ্র যেমন, ৭ নং ঘাট, রুপসা সেতু ও ময়ুর আবাসিক এলাকায় মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। খুলনা উন্নয়ন কতৃপক্ষ কেডিএর ময়ুরী আবাসিক এলাকায় এখনও কোন ভবন নির্মান না হওয়ায় মুক্ত আবহাওয়ায় একটু প্রশান্তিতে ঘুরতে দেখা গেছে বন্ধু বান্ধব সহ অনেককে সপরিবারে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শহরতলীর বাইরের রাস্তাগুলোও ছিল মোটরসাইকেল সহ নিজস্ব বহনে যাতায়তকারীদের। নগরীর অন্যান্য স্থানে আবাসিক এলাকা কল্যান সমিতি বা নানা সংগঠনের ব্যানারে চলছে ঈদ মেলা। সেসব জায়গাও ভিড় ছিল উপচেপড়া। তবে শিশুপার্ক বন্ধ করে বানিজ্য করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।নগরীর ৭ নং ঘাটে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সামিউল ইসলাম সুমন এর সাথে কথা হয় তিনি বলেন, খুলনার দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বিভাগ হলেও এখানে ভালো কোন পর্যটনের সুব্যবস্থা নেই।যে সকল বিনোদন কেন্দ্র আছে তাও প্রায় অচল ও মানহীন।প্রতিটা পার্কেই অধিক প্রবেশ মুল্য ও রাইডের অনেক ফি নেওয়া হয়। তাই দর্শনার্থীরা পার্ক গুলোতে না গিয়ে রুপসা ব্রিজ ও ৭ নং ঘাটে গিয়ে সময় কাটায়।