মো: কামরুল হাসান কক্সবাজার
এখনও বর্ষা কাল শুরু হয়নি কিন্তু পর্যটকসহ স্থানীয়দের দূ:দশা শুরু হয়ে গেছে, কক্সবাজার জেলার পর্যটন জোন এর প্রবেশদ্বার খ্যাত কলাতলীর প্রবেশ পথে বিভিন্ন হোটেল এর ব্যবহৃত বর্জ্য পানি সরাসরি সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করতেছে । এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ভ্রমনে আসা দুইতৃতীয়াংশ পর্যটক এবং কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ড, ঝিলংজা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড, খুনিয়া পালং ইউনিয়নের হিমছড়ি সহ প্রায় লক্ষাধিক স্থানীয় বাসিন্দা । কক্সবাজার পৌরসভা এবং উন্নয়ন কতৃপক্ষের কাজের সমন্বয় না থাকায় এই এলাকায় কোন সুয়ারেজ ব্যবস্থা নাই, এই সুযোগে হোটেল ডায়নামিক, হোটেল শাহজাদী, হোটেল লজ, হোটেল দা ওশানিয়া সহ আশেপাশের সব হোটেল এর বর্জ্যের পানি গুলো সরাসরি রাস্তায় চলে আসে । এই সুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই এলাকা দিয়ে চলাচল কারীদের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে । কলাতলী ডলফিন মোড় হতে ১ কিলোমিটার এর মধ্যে ৩ টি স্কুল, ১টি দাখিল মাদ্রাসা ও ১টি বিশ্ববিদ্যালয় এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার এই অবস্থা সৃষ্টি হওয়াতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে এটা যে কোন সময় বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক উন্নয়ন কর্মী । সে আরো বলেন বিশ্বের স্বাস্থ্যক স্থানের যদি এই অবস্থা হয় জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বকে কেমনে মুখ দেখাব এবং কিভাবে আমরা পর্যটক আকৃষ্ট করব বরং এখান থেকে যারা তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে যাবে তারা অন্যদের নিরুৎসাহিত করবে । স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন আমরা তো সরকারকে তো লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স দেই, আমরা যে পরিমান ভ্যাট ও ট্যাক্স দেই তা দিয়ে এই ছোট একটা উন্নয়ন করা কোন বিষয় না, এটা হচ্ছে কক্সবাজারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবহেলা এছাড়া আর কিছুই নয় । কক্সবাজার ভ্রমনে আসা এক পর্যটক বলেন এর চেয়ে বাংলাদেশে অনেক ইউনিয়নেও ভালো পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন করা হয়েছে অথচ এটা একটা জেলা শহর বিচিত্র সব হিসেব নিকেশ, উনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন কক্সবাজারের মাননীয় কর্তৃপক্ষ ডিসি, উন্নয়ন কতৃপক্ষ ও পৌরসভার প্রশাসক মহোদয়রা কি এটা আপনাদের চোখে পড়ছে না? এই প্রতিবেদক স্থানীয় হোটেল ডায়নামিক কয়েকটা ফ্লাট এর ভাড়াটিয়া , হোটেল শাহজাদী এর পারভেজ আলম (ফ্রন্ট ডেক্স), হোটেল লজ ( জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল মান্নান) সহ অনেকেরে কথা বলেছে, উনাদের বক্তব্য হচ্ছে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এটা প্রতিবছর হয়ে থাকে, আমরা সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিচ্ছি জনগণের জীবন যাত্রা মান উন্নয়নে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহনের জন্য সেখানে কক্সবাজারে বিষয়টা ভিন্ন হয়ে গেছে । কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রাছেল চৌধুরী’র ০১৭৩০-৯৪৮৫৪৩ এই নং যোগাযোগ করা হলে উনি ছুটিতে আছেন বলে সামিম সাহেবের নং দিচ্ছি বলে এই প্রতিবেদকের লাইন কেটে দেন, পরে সামিম সহেবের সাথে কথা বললে উনি বলেন আমি সুপারভাইজার রাস্তায় যখন সুয়ারেজের পানি গুলো উঠে গেছে শুনছি আজকেসকালে আমরা ড্রেন টা পরিস্কার করেছি । কিন্তু যে ড্রেনটা আছে এটা পর্যাপ্ত নয় যার কারনে বারবার বিভিন্ন হোটেল মোটেল এর ব্যবহৃত পচা পানি গুলো রাস্তায় এসে স্থানীয় বাসিন্দাসহ পর্যটকদের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে । এ মুহুর্তে জরুরী ভাবে যদি উক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত উন্নয়ন না করা হয় তাহলে বর্ষায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে লক্ষাধিক মানুষ, এবিষয়ে এখনই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহন করা দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগন ।