মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যরো :
খুলনা অবস্থান করছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর শামসুর রহমান রোডে রাতে তার বাড়িতে হাজির যৌথ বাহিনী। গ্রেনেড বাবুকে পেতে যৌথ বাহিনী তন্ন তন্ন করে খুজতে থাকে সব কিন্তু তাকে না পেয়ে সেনা, নৌ এবং পুলিশের যৌথ বাহিনী তল্লাসি শুরু করে বাড়িতে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল,গোলাবারুদ এবং নগদ টাকা। আটক করা হয় গ্রেনেড বাবুর ছোট ভাই রাব্বি চৌধুরী এবং পিতা মিন্টু চৌধুরীকে এসব উদ্ধারের ঘটনায় খুলনা সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হবে বলে জানায় পুলিশ। শুক্রবার ৪ এপ্রিল খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার ( উওর) আবুল বাশার মোহাম্মাদ আতিকুর রহমান এ তথ্য জানায়। এসময়ে তিনি আরো জানান,খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর যৌথ টিম জানতে পারে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু নগরীর শামসুর রহমান রোডের বাড়িতে অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী রাত ১ টার দিকে সেখানে অভিযান শুরু করে। এই অভিযান সকাল ৭ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। কিন্তু সেখানে গ্রেনেড বাবুকে না পেয়ে তার বাড়িতে তল্লাসি শুরু করে। একপর্যায়ে বাবুর ছোট ভাই রাব্বির কাছ থেকে একটি বিদেশি নাইন এম এম পিস্তল, গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন, একটি চাপাতি, একটি বাইনোকুলার, একটি মোবাইল এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এরপর গ্রেনেড বাবুর পিতা জোনায়েদ চৌধুরী মিন্টুকে ও গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে নগদ ১২ লাখ ১২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানের মাঝে গ্রেনেড বাবুর মাদক ব্যাবসার ম্যানেজার সোহাগ ও সৌরভের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। সেখান থেকে নগদ ২৬ লাখ ৪ হাজার ৫৫০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ৪ হাজার ২৪০ রুপি উদ্ধার করা হয় এবং তার মা সুষমা রানীকে সেখান থেকে আটক করা হয়। এসকল উদ্ধারের ঘটনায় খুলনা সদর থানায় আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হবে। সন্মেলনে তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসী রাব্বি চৌধুরীর বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ৩ টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। অন্যান্য আসামীর বিরুদ্ধে মামলা আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীর হাত যত বড় হোক না কেন সে আইনের উর্ধে নয়। দলীয় কোন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক কোন নেতা তার সাথে গ্রেনেড বাবুর সখ্যতা থাকলেও তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এডিসি হুমায়ুন কবির, সেনাবাহিনীর মেজর দেবাশীষ, নৌবাহিনীর লে: কমান্ডার সাদমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার আযম খান।