সজিব শিকদার জেলা প্রতিনিধি (বাগেরহাট)
মোরেলগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ঈদুল ফিতর থেকে গত ৬ দিনে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের মধ্যে ডায়রিয়া সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে রোগীর ভিড় বেড়েছে। এ পর্যন্ত ৫১ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কলেরা স্যালাইন সংকটের কারণে হাসপাতালের রোগীদের বাহির থেকে কলেরা স্যালাইন এবং খাবার স্যালাইন কিনে আনতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ খাবার পানিরও সংকট রয়েছে গোটা হাসপাতালে, যার ফলে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সরেজমিনে শনিবার (৫ এপ্রিল) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে তীব্র গরমে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত ৬ দিনে ৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি।
ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বদনীভাংগা গ্রামের বিলকিস আক্তার (২৮), পশ্চিম সরালিয়া গ্রামের বৃদ্ধ মোস্তফা শেখ (৭০), উত্তর সরালিয়া গ্রামের শিশু আলফি (১০), ভাইজোড়া গ্রামের বজলু খান (৫৫), চুমকি আক্তার (১৬), আব্দুল্লাহ (১৩ মাস), আব্দুল আলিম (৪), ফাতেমা (৩), কহিনুর বেগম (৫০), জোসনা আক্তার (২০), ছবেদ হাওলাদার (৪২), নুরুন্নাহার বেগম (৫৫), জাহানারা বেগম (৪০), সাদিয়া (১৯), কহিনুর খাতুন (৪৫)। এভাবে মোট ৫১ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে কিছু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
চিকিৎসাধীন রোগী মোস্তফা শেখ, বজলু খান, জাহানারা বেগমসহ একাধিক রোগী বলেন, “হাসপাতালে খাবার পানি নেই, দুই-একটি স্যালাইন দেওয়া হলেও অধিকাংশ রোগীকে কলেরা স্যালাইন এবং খাবার স্যালাইন বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ডাক্তাররা লিখে দিয়েছেন বাহির থেকে স্যালাইন কিনে আনতে হবে, কারণ হাসপাতালে স্যালাইন নেই।” এই অভিযোগ করেন রোগীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “কলেরার স্যালাইন হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে, যার ফলে সাময়িক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এক মাস আগে স্যালাইনের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। খাবার পানির সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন ভবনের কাজ চলমান থাকায় তিনটি ফিল্টারের মধ্যে দুটিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়নি। একটির পানি শেষ হয়ে গেছে, এবং পুনরায় বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত খাবার পানির সংকট কাটবে না। তবে বৃষ্টি হলে পানির সংকট কেটে যাবে।”